গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) দেশগুলোয় ২০৩৪ সাল নাগাদ পর্যটক ব্যয় ২২ হাজার ৩৭০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে জিসিসি-স্ট্যাট। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পর্যটন খাতের এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, মেগা প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সহজ ভিসানীতি। খবর আরব নিউজ।
পূর্বাভাস অনুসারে, উপসাগরীয় দেশগুলোর মোট রফতানিতে পর্যটক ব্যয় ১০ বছরের মধ্যে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ অবদান রাখবে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, জ্বালানি তেলনির্ভরতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে জিসিসি দেশগুলোয় পর্যটন খাত ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এ প্রবণতায় নেতৃত্বে রয়েছে সৌদি আরবের বৃহৎ অর্থনৈতিক পরিবর্তন। দেশটির উচ্চাভিলাষী ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর অন্যতম লক্ষ্য জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং বছরে ১৫ কোটি পর্যটক আকর্ষণ। নিওমের মতো বিশাল প্রকল্পগুলো এ রূপান্তরের অন্যতম চালিকাশক্তি।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জিসিসি দেশগুলোয় আন্তর্জাতিক পর্যটকরা ব্যয় করেছে ১৩ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ‘ট্যুরিজম স্ট্র্যাটেজি ২০৩১’-এর মাধ্যমে বিলাসী ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছে। এখানকার হোটেলগুলো চার কোটি পর্যটককে সেবা দিতে প্রস্তুত। ২০২২ বিশ্বকাপের সাফল্যকে ভিত্তি করে কাতার তার নগরভিত্তিক পর্যটনকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে বছরে ১ কোটি ১০ লাখ পর্যটক টানার চেষ্টা করছে ওমান।
এমনকি বাহরাইন ও কুয়েতের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট দেশগুলোও কৌশলগত উদ্যোগ নিচ্ছে। বাহরাইন ফর্মুলা ওয়ান রেস সামনে রেখে অবকাশ পর্যটনে জোর দিচ্ছে এবং কুয়েত বিনোদন অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করছে।